1وَٱلنَّٰزِعَٰتِ غَرْقًۭا
শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,
2وَٱلنَّٰشِطَٰتِ نَشْطًۭا
শপথ তাদের, যারা আত্মার বাঁধন খুলে দেয় মৃদুভাবে;
3وَٱلسَّٰبِحَٰتِ سَبْحًۭا
শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে দ্রুতগতিতে,
4فَٱلسَّٰبِقَٰتِ سَبْقًۭا
শপথ তাদের, যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় এবং
5فَٱلْمُدَبِّرَٰتِ أَمْرًۭا
শপথ তাদের, যারা সকল কর্মনির্বাহ করে, কেয়ামত অবশ্যই হবে।
6يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلرَّاجِفَةُ
যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী,
7تَتْبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ
অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী;
8قُلُوبٌۭ يَوْمَئِذٍۢ وَاجِفَةٌ
সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-বিহবল হবে।
9أَبْصَٰرُهَا خَٰشِعَةٌۭ
তাদের দৃষ্টি নত হবে।
10يَقُولُونَ أَءِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِى ٱلْحَافِرَةِ
তারা বলেঃ আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই-
11أَءِذَا كُنَّا عِظَٰمًۭا نَّخِرَةًۭ
গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরও?
12قَالُوا۟ تِلْكَ إِذًۭا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌۭ
তবে তো এ প্রত্যাবর্তন সর্বনাশা হবে!
13فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ
অতএব, এটা তো কেবল এক মহা-নাদ,
14فَإِذَا هُم بِٱلسَّاهِرَةِ
তখনই তারা ময়দানে আবির্ভূত হবে।
15هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ
মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?
16إِذْ نَادَىٰهُ رَبُّهُۥ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًى
যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,
17ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ
ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।
18فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ
অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?
19وَأَهْدِيَكَ إِلَىٰ رَبِّكَ فَتَخْشَىٰ
আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।
20فَأَرَىٰهُ ٱلْءَايَةَ ٱلْكُبْرَىٰ
অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।
21فَكَذَّبَ وَعَصَىٰ
কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অমান্য করল।
22ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَىٰ
অতঃপর সে প্রতিকার চেষ্টায় প্রস্থান করল।
23فَحَشَرَ فَنَادَىٰ
সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল,
24فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلْأَعْلَىٰ
এবং বললঃ আমিই তোমাদের সেরা পালনকর্তা।
25فَأَخَذَهُ ٱللَّهُ نَكَالَ ٱلْءَاخِرَةِ وَٱلْأُولَىٰٓ
অতঃপর আল্লাহ তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দিলেন।
26إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةًۭ لِّمَن يَخْشَىٰٓ
যে ভয় করে তার জন্যে অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে।
27ءَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
28رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا
তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
29وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَىٰهَا
তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন।
30وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ
পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।
31أَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَمَرْعَىٰهَا
তিনি এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাম নির্গত করেছেন,
32وَٱلْجِبَالَ أَرْسَىٰهَا
পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,
33مَتَٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَٰمِكُمْ
তোমাদের ও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।
34فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلْكُبْرَىٰ
অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।
35يَوْمَ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ مَا سَعَىٰ
অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে
36وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ
এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে,
37فَأَمَّا مَن طَغَىٰ
তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে;
38وَءَاثَرَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
39فَإِنَّ ٱلْجَحِيمَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ
তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
40وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفْسَ عَنِ ٱلْهَوَىٰ
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,
41فَإِنَّ ٱلْجَنَّةَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ
তার ঠিকানা হবে জান্নাত।
42يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا
তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কখন হবে?
43فِيمَ أَنتَ مِن ذِكْرَىٰهَآ
এর বর্ণনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক ?
44إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ
এর চরম জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে।
45إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخْشَىٰهَا
যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন।
46كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَىٰهَا
যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে।