1وَٱلنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।
2مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ
তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।
3وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰٓ
এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না।
4إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌۭ يُوحَىٰ
কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়।
5عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلْقُوَىٰ
তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা,
6ذُو مِرَّةٍۢ فَٱسْتَوَىٰ
সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল।
7وَهُوَ بِٱلْأُفُقِ ٱلْأَعْلَىٰ
উর্ধ্ব দিগন্তে,
8ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল।
9فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ
তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।
10فَأَوْحَىٰٓ إِلَىٰ عَبْدِهِۦ مَآ أَوْحَىٰ
তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন।
11مَا كَذَبَ ٱلْفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ
রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে।
12أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ
তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?
13وَلَقَدْ رَءَاهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ
নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,
14عِندَ سِدْرَةِ ٱلْمُنتَهَىٰ
সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে,
15عِندَهَا جَنَّةُ ٱلْمَأْوَىٰٓ
যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত।
16إِذْ يَغْشَى ٱلسِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ
যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল।
17مَا زَاغَ ٱلْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি।
18لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلْكُبْرَىٰٓ
নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।
19أَفَرَءَيْتُمُ ٱللَّٰتَ وَٱلْعُزَّىٰ
তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।
20وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلْأُخْرَىٰٓ
এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?
21أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلْأُنثَىٰ
পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
22تِلْكَ إِذًۭا قِسْمَةٌۭ ضِيزَىٰٓ
এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।
23إِنْ هِىَ إِلَّآ أَسْمَآءٌۭ سَمَّيْتُمُوهَآ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَٰنٍ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهْوَى ٱلْأَنفُسُ ۖ وَلَقَدْ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلْهُدَىٰٓ
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।
24أَمْ لِلْإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ
মানুষ যা চায়, তাই কি পায়?
25فَلِلَّهِ ٱلْءَاخِرَةُ وَٱلْأُولَىٰ
অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।
26۞ وَكَم مِّن مَّلَكٍۢ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغْنِى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعْدِ أَن يَأْذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرْضَىٰٓ
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।
27إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ تَسْمِيَةَ ٱلْأُنثَىٰ
যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
28وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ ۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًۭٔا
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।
29فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন।
30ذَٰلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱهْتَدَىٰ
তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।
31وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔوا۟ بِمَا عَمِلُوا۟ وَيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ بِٱلْحُسْنَى
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সৎকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল।
32ٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلْمَغْفِرَةِ ۚ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌۭ فِى بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمْ ۖ فَلَا تُزَكُّوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ
যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।
33أَفَرَءَيْتَ ٱلَّذِى تَوَلَّىٰ
আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
34وَأَعْطَىٰ قَلِيلًۭا وَأَكْدَىٰٓ
এবং দেয় সামান্যই ও পাষাণ হয়ে যায়।
35أَعِندَهُۥ عِلْمُ ٱلْغَيْبِ فَهُوَ يَرَىٰٓ
তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে?
36أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِى صُحُفِ مُوسَىٰ
তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে,
37وَإِبْرَٰهِيمَ ٱلَّذِى وَفَّىٰٓ
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে তার দায়িত্ব পালন করেছিল?
38أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌۭ وِزْرَ أُخْرَىٰ
কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।
39وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে,
40وَأَنَّ سَعْيَهُۥ سَوْفَ يُرَىٰ
তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।
41ثُمَّ يُجْزَىٰهُ ٱلْجَزَآءَ ٱلْأَوْفَىٰ
অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।
42وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلْمُنتَهَىٰ
তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি,
43وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَىٰ
এবং তিনিই হাসান ও কাঁদান
44وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
এবং তিনিই মারেন ও বাঁচান,
45وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوْجَيْنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰ
এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।
46مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ
একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়।
47وَأَنَّ عَلَيْهِ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُخْرَىٰ
পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই,
48وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ
এবং তিনিই ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন।
49وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعْرَىٰ
তিনি শিরা নক্ষত্রের মালিক।
50وَأَنَّهُۥٓ أَهْلَكَ عَادًا ٱلْأُولَىٰ
তিনিই প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন,
51وَثَمُودَا۟ فَمَآ أَبْقَىٰ
এবং সামুদকেও; অতঃপর কাউকে অব্যহতি দেননি।
52وَقَوْمَ نُوحٍۢ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَىٰ
এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল আরও জালেম ও অবাধ্য।
53وَٱلْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَىٰ
তিনিই জনপদকে শুন্যে উত্তোলন করে নিক্ষেপ করেছেন।
54فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ
অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় যা আচ্ছন্ন করার।
55فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহকে মিথ্যা বলবে?
56هَٰذَا نَذِيرٌۭ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلْأُولَىٰٓ
অতীতের সতর্ককারীদের মধ্যে সে-ও একজন সতর্ককারী।
57أَزِفَتِ ٱلْءَازِفَةُ
কেয়ামত নিকটে এসে গেছে।
58لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ
আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
59أَفَمِنْ هَٰذَا ٱلْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ
তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?
60وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
এবং হাসছ-ক্রন্দন করছ না?
61وَأَنتُمْ سَٰمِدُونَ
তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ,
62فَٱسْجُدُوا۟ لِلَّهِ وَٱعْبُدُوا۟ ۩
অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।